একটি চার্চের ইতিকথা
চার্চের সামনে তখন বহু মানুষের ভিড় জমে গেছে। বেশ কিছু ফটোগ্রাফার হাতে ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাদের হাতে অ্যালবাম গোছেরও কিছু একটা আছে দেখা যাচ্ছে। যারা আসছেন চার্চে তারা কেউ কেউ দরদাম করে ছবি তুলছেন,ওদিকে চার্চের ভেতরে তখন প্রার্থনা শুরু হয়ে গেছে। ঠিক এমনই এক সময় আমাদের বাস মেদাক বাস টার্মিনালে এসে দাঁড়ালো। বাস থেকে নেমে প্রথমেই যেটা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো সেটা হলো এক বিশাল বড় গেট যেখানে বড়ো বড়ো অক্ষরে লেখা আছে " চার্চ অফ সাউথ ইন্ডিয়া মেদক ডিওসিসে ক্যাথিড্রাল মেদাক।
চার্চে ঢোকার মূল গেট
আমরা তখনও জানতাম না আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেটা শুধু দক্ষিন ভারত নয় গোটা ভারতের মধ্যে অবস্থিত সবচেয়ে বড়ো চার্চ। এর অবস্থান তেলেঙ্গানা রাজ্যের মধ্যে অবস্থিত মেদাক নামক শহরে যেটা কিনা হায়দরাবাদ শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবে এই চার্চ বানানো হয়েছিল ১৯২৪ সাল নাগাদ চার্লস ওয়ালকার পসনেট এর তত্ত্বাবধানে। এই চার্লস ওয়ালকার ছিলেন একজন ওয়াসলেয়ান মেথোডিস্ট , কি এই ওয়াসলেয়ান মেথোডিস্ট ? ইংল্যান্ডে জন ওয়েসলি মারা যাওয়ার পর বেশ কিছু মানুষজন চার্চ অফ ইংল্যান্ডের নিয়ম কানুন থেকে বেরিয়ে আসতে চান এবং জন ওয়েসলির তৈরী করা নিয়মকানুন মেনে নতুন কমিটি গঠন করেন। পরবর্তীকালে জন ওয়েসলির নিয়মকানুন পৃথিবীর নানান দেশের চার্চের মূল নিয়মকানুন হয়ে দাঁড়ায়। চার্লস ওয়ালকার পসনেটও জন ওয়েসলির নিয়মকানুন অনুসরণ করেন। মেদাক ডিওসিসে একমাত্র সবচেয়ে বড়ো ডিওসিসে এশিয়ার মধ্যে এবং দ্বিতীয় গোটা পৃথিবীর মধ্যে ভার্টিক্যানের পরে। প্রশ্ন হতে পারে ডিওসিসে কি ? ডিওসিসে হলো খ্রিস্টীয় ধর্মাধ্যক্ষের বা বিশপের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা। আবার প্রশ্ন উঠতে পারে বিশপ কি ? বিশপ আর কেউ নন,একজন ধর্মাধ্যক্ষ বা যিনি খ্রিস্টান ধর্মের হোতা যেমন হিন্দুদের পুরোহিত।


























Comments
Post a Comment