Skip to main content

সাইকেল অভিযান :পর্ব এক 

রাধামোহনপুর হইতে মেচগ্রাম 


সময়টা ২০১৯ সাল ,আমি তখন হায়দ্রাবাদে কর্মসূত্রে থাকি। সকাল ১০টার সময় মাঝে মাঝে যখন রবিবারের দিনেও অফিস যেতে হতো দেখতাম কিছু ছেলে সাইকেল চালিয়ে ফিরছে। এইরকম ঘটনা বার কয়েক বহুবার ঘটেছে, দেখেছি যে সাইকেল আমি চালাতাম গ্রামে তার থেকে বেশ আধুনিক সাইকেল এরা চালাচ্ছে ,পোশাক পরিচ্ছদ ও বেশ অন্যরকমের। ছুটির দিন গুলোতেই এদের বেশি করে চোখে পড়তো। 

একদিন একটি  দোকানে চা পান করছি ,ঠিক সেইসময় বেশ কিছু যুবক এসে দোকানে জটলা করলো। সেই একরকমের পোশাক পরে সাইকেল নিয়ে তারা এসেছে। ওরা নিজেদের মধ্যে যে কথা বলছিলো তার সারমর্ম হলো -ওরা ভোর থেকে বেরিয়েছিল ৭০ কিমি সাইকেল চালিয়ে ফিরছে।  কিছুক্ষন চুপ করে ওদের কথা শোনার পর ,আমি নিজে গিয়ে ওদের সাথে পরিচয় করলাম। প্রায় ঘন্টা খানেক আড্ডা মারার পর যা জানতে পারলাম তা শুনে থ মেরে গেলাম। আড্ডার ফলস্বরূপ ডিক্যাথলন আর ৫০০০ টাকা ব্যায় করে একটি সাইকেল কিনে ফেললাম।  ওরা আমায় আমন্ত্রণ জানালো বিভিন্ন ইভেন্টে যোগ দেওয়ার জন্য কিন্তু অফিস বা এককথায় বললে পেটের দায়ে ইভেন্টগুলোতে যোগ দিতে পারছিলাম না। এদিকে সাইকেল ফেলে রাখবো না এই জেদ ও মনে চেপে গিয়েছে। তাই সাইকেল নিয়েই অফিসে যাওয়া শুরু করলাম। একদিন এক ছুটির দিনে সাইকেল নিয়ে পাঁচ কিলোমিটার মতো চলেও গেলাম। 

               "জমানো টাকায় কেনা প্রথম সাইকেল "

হায়দ্রাবাদে সাইকেল চালানো বেশ কষ্টকর ,যদিও শরীরের বেশ উপকার। কোনো জায়গায় দেখবেন প্যাডেল করতেই হচ্ছে না আবার কোথাও এতো উঁচু যে আপনাকে নেমে যেতে হচ্ছে। এইরকম অনেকদিন  এইভাবে সাইকেল চালাচ্ছি এরইমধ্যে পড়লো লকডাউন। তল্পিতল্পা গুটিয়ে বাড়ি ফিরতে হলো। যেটুকু দরকার তাই নিয়েই আমার গ্রাম মানে রাধামোহনপুরে ফিরে এসেছিলাম। সাইকেল অবশ্যই আনতে পারিনি। তাই ঘরে মাঝে মাঝে পুরনো সাইকেল নিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছিলো। 

এরমধ্যে সাইকেল মানে এই স্পোর্টস নিয়ে কিছু আর্টিকেল ও দেখছিলাম। অভিষেক তুঙ্গ দার ব্লগও প্রায় ফলো করতাম। এরইমধ্যে হায়দ্রাবাদ থেকে বাকি সমস্ত জিনিসপত্র সঙ্গে অবশ্যই সাইকেল টি  আমার গ্রামে নিয়ে আসি। সাইকেলটি  দীর্ঘদিন পড়ে থাকার ফলে ,প্রথমেই সাইকেলটিকে সারাতে হয়। তারপর প্রত্যেকদিন সাইকেল নিয়ে রাধামোহনপুর থেকে আষাঢ়ি এবং আষাঢ়ি থেকে রাধামোহনপুর ১০ কিমি বিকেলবেলা চালানো শুরু করি। প্রথমদিকে প্রচন্ড কষ্ট হতো কিন্তু  পরে  তা অভ্যাস হয়ে যায়। 


                   " সাইকেল নিয়ে মেচগ্রামে "

শঙ্কর বলে আমার এক বন্ধু বেশ কয়েকদিন ধরেই সাইকেল নিয়ে বেশ কিছু পোস্ট করছিলো। প্রায় দেখতাম আর ছবিগুলো লাইক করতাম। দুএকবার ফেসবুকে কথাও হয়েছে এই নিয়ে  কিন্তু ও যে বিভিন্ন সাইকেল সংগঠনের সাথে যুক্ত তা আমি জানতাম না। ফিট ইন্ডিয়া সাইক্লোথন বলে তখন কিছু চলছে তাও আমি তখন জানতাম না।  বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেছে ,রাতে শুয়ে শুয়ে ফেসবুক স্ক্রল করছি তখনই চোখে পড়ে ফিট ইন্ডিয়া সাইক্লোথন ইভেন্ট সঙ্গে west midnapore cycler's club এর নাম। বাড়ির কাছে এতো ছেলে মেয়ে সাইকেল নিয়ে এতো উৎসাহ ,রীতিমতো যেন এক সাইকেল উৎসব  তা হজম করতে বেশ কিছুক্ষন সময় লেগেছিলো। আমরা ছোটবেলায় সরস্বতী  পূজোতে সাইকেল নিয়ে এপাশ  থেকে  ওপাশ ঘুরে ঘুরে বেড়াতাম ,তাতে আমাদের কত গর্ব ছিলো। ইদানিংকালে  সাইকেল চালানো মানে আপনার যে কোনো মূল্য নেই তা আমার বেশ কিছু বন্ধুদের কথা -বার্তা তেই বোঝা যায়। কিন্তু যখন আমি হায়দ্রাবাদে থাকতাম এই সাইকেল চালানো নিয়ে ওখানকার বন্ধুদের মধ্যে অনেক উৎসাহ চোখে পড়তো। এর মুলে একটাই কারণ সাইকেল নিয়ে সচেতনতা। এই ধরণের ইভেন্ট বা ক্লাব আগামীদিনে এই সচেতনতার কাজ করবে এই আশা আমার। 

                    " আমি এবং শঙ্কর ,অযোধ্যা পাহাড়ে "

সেপ্টেম্বর মাস  তখনও আমি পুরোনো সাইকেল নিয়ে কাজ চালাচ্ছি ,একদিন ইচ্ছে হলো একটু বেশি দূরেই যাবো। সেইমতো পুরোনো সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম তেমনি র উদ্দেশ্যে। তেমনি একটি জায়গার নাম। শীতকালে ছোটো খাটো বনভোজন হয়ে থাকে। রুট হওয়ার কথা ছিলো রাধামোহনপুর -আষাঢ়ী -ডেবরা -মাড়োতলা -তেমনি। আপনি গুগল করলে এই রুট খুঁজে পাবেন না ,বা জায়গার কোনো নামকরণ করা নেই তেমনি বলে। প্রথমেই আমি ভুল রুট ধরে ফেলি ,আমি মাড়োতলা কে লোয়াদা বানিয়ে ফেলেছিলাম। সেইমতো রাধামোহনপুর-আষাঢ়ী-লোয়াদা-আনকোরা এক জায়গা। আমি তেমনি পৌঁছতে পারিনি। আমি লোয়াদা থেকে বামদিক বরাবর ৪ থেকে ৫ কিমি যাই ,কিন্তু তখনও যখন লোকজন বলে আরো ৫ থেকে ৬ কিমি বাকি তখন মনে সন্দেহ পাকা হয় আমি ভুল রুটে এসে পড়েছি। এদিকে সন্ধ্যে নেমে গেছে ,ফিরতে হলে আরো ১৫ কিমি। হাতে টর্চ নেই ,রাস্তা শুনসান ,তাই আর আগের দিকে না গিয়ে বাড়ির পথ ধরি। বাড়ি পৌঁছতে সন্ধ্যে ৭.৩০ বেজে যায়। মনে একটা আক্ষেপ থাকলেও  দুটো বিষয় ঠিকঠাক হয়। এক-৩০ কিমি সাইকেল চালিয়ে ফেলি অনেক দিন পর ,দুই -একটা নতুন রুট খুঁজে ফেলি যা ভবিষ্যতে কোনো একদিন করবো ঠিক করি। কারণ নদীর পাস বরাবর রাস্তার সৌন্দর্য অতুলনীয়। তেমনি তে সেইরকম যদিও কিছু নেই কংসাবতী নদী এই জায়গায় এসে দু ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। চারিদিকে গাছ গাছালি বেশ মনোরম যদি খুব ভোরে বা বিকেল বেলা যাওয়া যায়। তবে পর্যাপ্ত সংস্কারও জরুরী। 

                "তেমনি র উদ্দেশ্যে -আনকোরা এক জায়গা তে। "

যাইহোক যখন আমি ফেসবুকে শঙ্করের পোস্ট টা দেখি তখন ওই ইভেন্ট টা হয়ে গেছে। মনের মধ্যে একপ্রকার হতাশা নিয়েই আমি শঙ্কর কে মেসেজ করি। মেসেজ এবং পরের দিনের ফোন কলে অনেক বিষয় পরিষ্কার হয়ে ওঠে। প্রথম-- এই ইভেন্ট যে কেউ ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নিজে বা কোনো দলের সাথে  করতে পারে। দ্বিতীয় --- west midnapore cycler's club এর ফেসবুক গ্রপে আমি রিকোয়েস্ট পাঠাই যাতে ভবিষৎতে এমন ইভেন্ট আমি মিস না করে যাই।  তৃতীয় ---starva নামক app এর মধ্যে দিয়ে আমি আমার সাইকেল চালানোর পরিসংখ্যান রেকর্ড করে রাখতে পারি। 

এরপরে fit India cyclothon এর ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখি আমি একাও এই ইভেন্টে যোগ দিতে পারি। রেজিস্ট্রেশন করে দিন ঠিক করে ফেলি সাইকেল নিয়ে বেরোবো। প্রথমে ইচ্ছে ছিলো আরো কাউকে সঙ্গে নেবো ,সেইমতো আমার গ্রামের একটা ফেসবুক গ্রূপে  একটা পোস্টার বানিয়ে পোস্ট করি ,যদি কেউ আগ্রহী হয়। এদিকে মনে জেদ ধরে রেখেছি কেউ না গেলে একাই যাবো। দিন ঠিক হয় ২৩শে জানুয়ারীর দিন। রুট ঠিক করি  রাধামোহনপুর -পলাশী -হাউর-গোঁসাই বাবার মন্দির -ক্ষিরাই স্টেশন দিয়ে আবার ফিরে আসা। আমার সাথে এক বন্ধু যেতে শেষমেশ রাজি হয়। আমি ওর সাইকেল নিয়ে একটু চিন্তাতে ছিলাম। বেরোনোর সময় আমরা দুপুর  ২টো ঠিক করে রাখি। ২৩শে জানুয়ারীর দিন দুপুরে হালকা খাবার খেয়ে ,খানিক বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পড়ি ক্ষিরাই বা ফুলের রাজত্বের উদ্দেশ্যে। 

                          " ক্ষিরাই রেলওয়ে ব্রিজে দাঁড়িয়ে "

রাধামোহনপুর থেকে হাউর পর্যন্ত রাস্তাতে নির্বিঘ্নেই চলেছি ,হাউর পৌঁছে যে রাস্তায় যাবো ভেবেছিলাম সেই রাস্তা প্রচন্ড খারাপ থাকার কারনে স্থির করি রেললাইনের পাশ দিয়ে যে রাস্তাটি গোঁসাই বাবার মন্দির চলে গেছে ওই রাস্তাতেই চলে যাবো। খুব কম সময়েই আমরা গোঁসাই বাবার মন্দির পৌঁছে যাই। এখান থেকে ক্ষিরাই আর মেরে কেটে ২ কিমি হবে। অনেকেই জানেন এই মন্দির খুব জাগ্রত। বহু দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসেন এই মন্দিরে পুজো  দিতে। এখানকার ভোগ চিড়া প্রসাদ একপ্রকার অমৃত সমান। আমরা মন্দিরের  বাইরে থেকে প্রণাম করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ি। এখান থেকে দুটো রাস্তা ক্ষিরাই চলে গেছে একটা রেল লাইনের পাস বরাবর ,রাস্তা কিছু নেই ,পাথরের ওপর দিয়ে সামান্য হেটে যাওয়ার পথ। এই পথ দিয়েই দর্শনার্থীরা আসেন পূজো দিতে আরেকটি গ্রামের ভেতর দিয়ে অনেক ঘোরা পথ। প্রথম পথটি সাইকেল চালানোর অনুপযোগী হলেও তাড়াতাড়ি ক্ষিরাই পৌঁছানো যায় ,আর দ্বিতীয় টি দিয়ে অনেক ঘুরে ঘুরে যেতে হবে। আমরা প্রথম পথটাই নিলাম। একটু সাইকেল চালাই তো আবার নেমে পড়তে হয়। অনেক সাবধান অবলম্বন করে চলতে হচ্ছে। একদম নাকের ডগা দিয়ে যখন ট্রেন যাচ্ছে তখন সাইকেল থেকে নেমে দাঁড়িয়ে পড়তে হচ্ছে।এইসব রাস্তায় অসাবধানতার কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু আমি বহুবার এই রাস্তায় এসেছি তাই চিন্তা একটু কম ছিলো। এইভাবে চলতে চলতে ক্ষিরাই ব্রিজে উঠে পড়লাম। স্টেশন আর কয়েক হাতের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। সাথে শুরু হয়েছে ফুলের উদ্যান যাকে দেখতে বহু দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এসেছেন। 


"নাকের ডগা দিয়ে ট্রেন বেরিয়ে যাচ্ছে "

ফুলের রাজত্বের দিকে যেতে মন চাইছিলো না ,তাই পাঁশকুড়া যাবো মনঃস্থির করলাম। কয়েকজন ফুলচাষী কাজ করছিলেন  তাদের কাছে  পাঁশকুড়া যাওয়ার রাস্তা জেনে নিলাম। রাস্তা এঁকে বেঁকে গ্রামের মধ্যে দিয়ে তাই খুব বেশি জোরে সাইকেল চালাতে পারছিলাম না। অনেকক্ষন সাইকেল চালানোর পর আমরা পিচ রাস্তায় এসে পড়লাম। এবার সাইকেল একটু গতি পেলো। আরো ২-৩ কিমি চালানোর পর আমরা মেচগ্রাম যাওয়ার রাস্তাতে উঠে পড়লাম। রাস্তাতে আসার সময় দেখেছি বহু মানুষ চলেছে ফুলের রাজত্বের দিকে। কংসাবতী ব্রিজ পেরোনোর সময় দেখলাম একটি ছেলে সাইকেল নিয়ে ফুলের রাজত্বের দিকে ঢুকে গেলো। মনে হলো সে বেশ কয়েকদিনের জন্য বেরিয়েছে সাইকেল নিয়ে। মনটা বেশ ভালো হয়ে গেলো। আর মাত্র ১.৫কিমি গেলেই মেচগ্রাম। সেখান থেকে বামদিক বরাবর চলে গেলেই পাঁশকুড়া বাজার পড়ে যাবে। মেচগ্রামে পৌঁছে দেখি রাস্তা ঘিরে রাখা হয়েছে কোনো এক সভার জন্য। অনেক দেরী হতে পারে ধরে নিয়েই  ফেরার প্ল্যান করলাম। একই পথে আর ফিরবো না তাই ঠিক করলাম  NH ১৬ হয়ে ফেরত যাবো। ডাবের জল মেচগ্রামেই খেয়ে নিয়ে ছিলাম তাই ক্লান্তি বোধ হচ্ছিলো না। সুন্দর মসৃন রাস্তা ,খুব জোরে সাইকেল চলছিল রাধামোহনপুরের উদ্দেশে। 

"মেচগ্রাম বাজারে আমি এবং আমার সাইকেল "

রাতুলিয়া পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিলো গন্ডগোল হলো হাউর ঢোকার রাস্তার ১ কিমি আগে থেকে। বিশাল ট্রাফিক জ্যাম। লাইন দিয়ে সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। বেশির ভাগ মানুষ গাড়ি  থেকে নেমে পড়েছে রাস্তাতে। কারন যা জানা গেলো তা হলো একটি বাইক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাইক আরোহী ২ জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। এই নিয়ে সাধারণ মানুষ পথ অবরোধ করেছে। যেহেতু আমরা সাইকেল নিয়ে আছি তাই পাশ কাটিয়ে আগের দিকে এগোতে লাগলাম। পেছনে ফিরে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। এইভাবে এগোতে এগোতে ঘটনাস্থলের একদম কাছে পৌঁছে যাই। দেখি বহু মানুষ একজায়গায় ভিড় করে জটলা করেছে। আমরা ঠিক করে ফেলি সামনের দিকে আর না গিয়ে  বামদিকের রাস্তা ধরে হাউর চলে যাবো। এদিকে শঙ্কর কে ফোন করে জেনেছিলাম আজ কিছু সাইকেল গ্রূপ কলকাতা গেছিলো হয়তো রাস্তাতে দেখা হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থাতে দেখা হবে না জেনে আমরা হাউর এর পথ ধরলাম। সামনে ফাঁকা রাস্তা ,হাউর এর পথ ধরায় কিলোমিটার কিছুটা বেড়ে গেলো আমাদের। এইভাবে ৪-৫ কিমি যাওয়ার পর আমরা সেই পয়ন্টে এসে দাঁড়ালাম যেখান থেকে আমরা গোঁসাই বাবার মন্দির যাওয়ার পথ ধরেছিলাম। এবার চেনা পথ আর মাত্র ৬ কিমি গেলেই বাড়ি পৌঁছে যাবো। সন্ধ্যে হয়ে আসছে ,চারিদিকে কেমন যেন এক ধোঁয়াটে আবহাওয়া ,ভালোই শীত অনুভব হচ্ছে এবার। আশে পাশের জমিতে লাগানো ফুলগাছগুলো দেখতে দেখতে আমরা বাড়ির একদম ঠিক কাছে পৌঁছে গেলাম। এবার একটু চা বিরতি নিয়ে সোজা বাড়ির পথ ধরলাম। বাড়িতে পোঁছে দেখি আজ সব মোট ৩৫.৯৩ কিমি সাইকেল চালিয়েছি ,অন্তত starva app তাই দেখাচ্ছে। ভেবে নিয়েছি পরের গন্তব্য ,এখন খালি বিশ্রামের পালা। আর যখন আমি এই লেখাটি লিখতে বসেছি তখন আমার দ্বিতীয় গন্তব্য সাইকেল নিয়ে ঘোরা হয়ে গেছে -----দূরত্ব ৫৪.৯ কিমি। লিখবো পরের অধ্যায়ে। 


                                                            
                        " সেদিনের পরিসংখ্যান "


                              " খেল -খতম "

Comments

Popular posts from this blog

  একটি চার্চের ইতিকথা                                                 চার্চের সামনে তখন বহু মানুষের ভিড় জমে গেছে। বেশ কিছু ফটোগ্রাফার হাতে ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাদের হাতে  অ্যালবাম গোছেরও কিছু একটা আছে দেখা যাচ্ছে। যারা আসছেন চার্চে তারা কেউ কেউ দরদাম করে ছবি তুলছেন,ওদিকে চার্চের ভেতরে তখন প্রার্থনা শুরু হয়ে গেছে। ঠিক এমনই এক সময় আমাদের বাস মেদাক  বাস টার্মিনালে এসে দাঁড়ালো। বাস থেকে নেমে প্রথমেই যেটা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো সেটা হলো এক বিশাল বড় গেট যেখানে বড়ো বড়ো অক্ষরে লেখা আছে " চার্চ অফ সাউথ ইন্ডিয়া মেদক ডিওসিসে ক্যাথিড্রাল মেদাক।            চার্চে ঢোকার মূল গেট  আমরা তখনও জানতাম না আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেটা শুধু দক্ষিন ভারত নয় গোটা ভারতের মধ্যে অবস্থিত সবচেয়ে বড়ো চার্চ। এর অবস্থান তেলেঙ্গানা রাজ্যের মধ্যে অবস্থিত মেদাক নামক শহরে যেটা কিনা হায়দরাবাদ শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত...
TOPIC: YOUTH HOSTELS IN WEST BENGAL What is Youth Hostel: A place providing cheap accommodation, aimed mainly at young people on walking or cycle tours. Purpose: Those who are like Budget travelling or doing solo travelling mainly prefer Youth Hostels. Where you find youth Hostels? All over the world you can find youth hostels ,in West Bengal also you find many youth hostels around many places. Who are eligible for Youth Hostels? All citizens can apply for booking for accommodation in various youth hostels. Online/Manual Booking systems: Anyone can book Youth hostel through online youth hostel booking portal. There you can check the room types ,availability and their tariff plans. You can also pay online through debit/credit /upi . By manually you can visit state youth centre  in Moulali, Kolkata and do the bookings. Rules and Guidelines of the Youth Hostels: Youth Hostels in West Bengal: 1. Kanchanjangha Youth Hostel( Siliguri) 2. Mukutmanipur Youth Hostel 3.Digha Y...